চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) মোট ৪ লাখ ৮০ হাজার ১২৬টি গাড়ি সরবরাহ করেছে বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি (ইভি) নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি। এটি কোম্পানির ইতিহাসে দ্বিতীয় প্রান্তিকের সর্বোচ্চ বিক্রির রেকর্ড। একই সঙ্গে এটি বাজার বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসকেও ছাড়িয়ে গেছে।
বিশেষ করে ইউরোপের বাজারে চাহিদা বাড়ায় কোম্পানিটি রেকর্ডসংখ্যক গাড়ি সরবরাহ করতে সক্ষম হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ প্রবৃদ্ধিতে ফের গতি ফিরে পেয়েছে টেসলার মূল গাড়ি ব্যবসা, যা ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), স্বচালিত গাড়ি ও রোবট প্রযুক্তিতে কোম্পানির বড় বিনিয়োগের ভিত্তি তৈরি করবে।
বিশ্লেষকরা গত প্রান্তিকের জন্য গড়ে প্রায় ৪ লাখ ২ হাজার গাড়ি বিক্রির পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। টেসলা এ সময়ে উৎপাদন করেছে ৪ লাখ ৫১ হাজার ৭৫৮টি গাড়ি। অর্থাৎ উৎপাদনের তুলনায় সরবরাহ বেশি হওয়ায় কোম্পানিটি আগের প্রান্তিকে জমে থাকা গাড়ির একটি অংশ বিক্রি করতে পেরেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, টেসলার এ সাফল্যের সবচেয়ে বড় কারণ ইউরোপের বাজারে চাহিদা বৃদ্ধি। গবেষণা প্রতিষ্ঠান মর্নিংস্টারের জ্যেষ্ঠ শেয়ার বিশ্লেষক সেথ গোল্ডস্টেইনের মতে, বর্তমানে টেসলার প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি ইউরোপ। যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি এখনো কমলেও তা সামগ্রিক ইভির বাজারের তুলনায় ভালো অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে চীনের বাজারেও টেসলা সামান্য প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপে টেসলার বিক্রি বাড়ার পেছনে কয়েকটি কারণ কাজ করেছে। বিভিন্ন দেশের সরকারি ভর্তুকি, করপোরেট পর্যায়ে দ্রুত বিদ্যুচ্চালিত যানবাহন গ্রহণ, জ্বালানির উচ্চমূল্য ও প্রধান নির্বাহী ইলোন মাস্কের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে ভোক্তাদের মধ্যে তৈরি হওয়া নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার প্রভাব কমে আসা এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য।
চীনের বাজারেও টেসলা কিছুটা ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছে বলে উঠে এসেছে প্রতিবেদনে। কোম্পানিটির নতুন সংস্করণের মডেল ওয়াই গাড়ির উৎপাদন বাড়ায় বিক্রি বেড়েছে। যদিও দেশটির বাজারে বিওয়াইডিসহ স্থানীয় নির্মাতাদের সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে টেসলাকে।
টেসলার শক্তিশালী বিক্রি কোম্পানির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কারণ কোম্পানিটি আগামী বছরগুলোয় এআই, স্বচালিত গাড়ি, ব্যাটারি উৎপাদন ও মানবসদৃশ রোবট প্রযুক্তিতে ব্যাপক বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে।
টেসলা জানায়, ২০২৬ সালে মূলধনি ব্যয় ২৫ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি হতে পারে, যা গত বছরের ৮ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের প্রায় তিন গুণ। এ বিনিয়োগের বড় অংশ যাবে এআই অবকাঠামো সম্প্রসারণ, ব্যাটারি উৎপাদন বৃদ্ধি, সাইবারক্যাব উৎপাদন ও অপটিমাস রোবট প্রকল্পে।
টেসলা বর্তমানে শুধু গাড়ি নির্মাতা হিসেবে নয়, এআই ও স্বচালিত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হিসেবেও নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে।
এরই মধ্যে ইউরোপের কয়েকটি দেশে টেসলা ‘ফুল সেলফ-ড্রাইভিং’ বা এফএসডি প্রযুক্তি চালু করেছে। যদিও এখনো এটি সীমিত পরিসরে রয়েছে। আগামী কয়েক মাসে আরো বেশকিছু দেশে প্রযুক্তিটি চালু হলে কোম্পানির গাড়ির চাহিদা বাড়তে পারে বলে ধারণা বিশ্লেষকদের।
স্বচালিত পরিবহন সেবার ক্ষেত্রেও কার্যক্রম বাড়াচ্ছে টেসলা। জুনে যুক্তরাষ্ট্রের অস্টিন শহরে সীমিত পরিসরে রোবোট্যাক্সি সেবা চালুর পর কোম্পানিটি ধীরে ধীরে এ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করছে। খবর দ্য গার্ডিয়ান